বাচ্চার বন্ধু না থাকলে কী করবেন: সহজ ৫টি সমাধান

বাচ্চার বন্ধু না থাকলে কী করবেন? রোজ ১৫ মিনিট খেলা ও কথা বলার মাধ্যমে শিশুর সামাজিক দক্ষতা বাড়ানোর ৫টি সহজ ও কার্যকর সমাধান জানুন।

বাচ্চার বন্ধু না থাকলে কী করবেন, এই চিন্তায় আটকে গেলে প্রথমেই একটা ছোট কাজ শুরু করুন। রোজ ১৫ মিনিট বাচ্চার সাথে একা বসে খেলুন, কোনো উপদেশ না দিয়ে। বাচ্চার বন্ধু না থাকার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অন্য শিশুদের সাথে কথা বলার সুযোগ না পাওয়া। বাড়িতে আপনি যখন তার সাথে সহজ ভাষায় কথা বলেন, তখন সে বাইরেও সেই অভ্যাস নিয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষক বা কাউন্সেলরকে জানিয়ে রাখুন, তারা শ্রেণিকক্ষে জোড়ায় কাজের সুযোগ দিতে পারেন।

বাচ্চার বন্ধু না হওয়ার আসল কারণগুলো

লাজুক স্বভাবের কারণে খেলতে ভয় পাওয়া শিশু
Photo: Abir Joy on Pexels

একটি শিশুর বন্ধু না থাকার পেছনে দু-তিনটে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। প্রতিটি শিশুর স্বভাব আলাদা, তাই কারণটা খুঁজে বের করা জরুরি।

প্রথম কারণ হলো লাজুক স্বভাব। কিছু শিশু নতুন মানুষের সামনে যেতে ভয় পায়। তারা কথা বলতে চাইলেও মুখ ফুটে বলতে পারে না। এটা কোনো অসুখ নয়, শুধু একটু সময় লাগে।

অনেক বাবা-মা এই লাজুক স্বভাবকে ভুল করে অহংকার বা রূঢ়তা ভাবেন। অন্যদের সাথে কথা না বললে তাকে বকাঝকা শুরু করেন। এই ভুলের খেসারত হিসেবে শিশু আরও বেশি চুপ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় কারণ হলো অন্যদের সাথে মেলামেশার সুযোগ না পাওয়া। যদি শিশু সারাদিন বাড়িতে একা থাকে, তাহলে সে বন্ধু বানাবে কোথায়? পার্কে বা খেলার মাঠে যাওয়া না হলে এই সমস্যা হয়।

শুধু পার্কে নিয়ে গেলেই হবে না, নিয়মিত যেতে হবে। একই সময়ে একই জায়গায় গেলে পরিচিত মুখ দেখা যায়। অপরিচিত ভয়ের জায়গায় তখন ধীরে ধীরে পরিচয় তৈরি হয়।

তৃতীয় কারণ হলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। রাগ বা কান্না থামাতে না পারলে অন্য শিশুরা দূরে সরে যায়। খেলায় হারলে রেগে যাওয়া বা জিনিসপত্র ছুড়ে মারা এর মধ্যে পড়ে।

খেলায় হারলে রেগে যাওয়াটা চার বছর পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক। কিন্তু ছয় বছর পরেও যদি এই অভ্যাস না কমে, তবে বিষয়টি আলাদা। তখন অন্য শিশুরা তাকে খেলার সঙ্গী হিসেবে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।

কিছু শিশু বন্ধুত্বের সাধারণ নিয়মগুলো বুঝতে পারে না। কেউ কথা বললে উত্তর দেওয়া বা খেলনা ভাগ করে নেওয়া তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। এখানে জোর করে শেখালে কাজ হয় না।

আপনি বাড়িতে ছোট ছোট খেলার মাধ্যমে এসব শেখাতে পারেন। দুজনের খেলায় পালা করে চাল দেওয়ার অভ্যাস করান। ঘরের এই অনুশীলন বাইরের মাঠে গিয়ে কাজে লাগে।

NHS বলেছে, যদি আপনার শিশু চোখে চোখ রেখে কথা বলে না বা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না, তাহলে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে লক্ষণগুলো পড়ে দেখুন। সেখানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়া আছে।

সব শিশুর জন্য একই নিয়ম খাটে না। যে শিশু আগে থেকেই একটু চুপচাপ, তাকে জোর করে ভিড়ে ঠেলে দেবেন না। আর যে শিশু শুধু সুযোগের অভাবে একা, তাকে মাঠে নিয়ে যাওয়াটাই যথেষ্ট।

প্রতিদিন ১৫ মিনিট একা বসে খেলুন

এই পদ্ধতিটা তাদের জন্য, যাদের শিশু বাড়িতেও একা একা থাকতে বেশি পছন্দ করে। আপনাকে কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম লাগবে না, শুধু ধৈর্য দরকার।

প্রথমে শিশু যে খেলাটা পছন্দ করে, সেটা বেছে নিন। লেগো, রং করা বা মাটির পুতুল—যেকোনো কিছু হতে পারে। শিশু যদি একা খেলতে চায়, তবে পাশে চুপচাপ বসে থাকুন।

তারপর শিশু যা করছে, সেটার বর্ণনা দিন। যেমন, “তুমি লাল রঙের গাড়িটা বানাচ্ছ।” কোনো প্রশ্ন করবেন না বা ভুল ধরবেন না। এভাবে রোজ ১৫ মিনিট কাটান।

বর্ণনা দেওয়ার সময় নিজের মোবাইল বা ঘড়ির দিকে তাকাবেন না। শিশুরা অমনোযোগী ভঙ্গি সাথে সাথে ধরে ফেলে এবং নিজেদের গুটিয়ে নেয়।

আপনার মন্তব্যগুলো সংক্ষিপ্ত ও তথ্যনির্ভর রাখুন। “বাঃ, কী সুন্দর!” বলার চেয়ে “তুমি নীল ব্লকটা উপরে রাখলে” বলা অনেক বেশি কার্যকর। এতে শিশু বোঝে আপনি সত্যিই তার কাজ দেখছেন।

এক সপ্তাহ পর দেখুন শিশু আপনার দিকে তাকাচ্ছে কি না বা আপনাকে কিছু দেখাচ্ছে কি না। যদি সে নিজে থেকে আপনাকে খেলায় টানে, বুঝবেন কাজ হচ্ছে।

উন্নতির গতি প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে আলাদা হয়। কেউ তিন দিনে সাড়া দেয়, কারো ক্ষেত্রে তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। তাড়াহুড়ো করলে শিশু চাপ অনুভব করে।

এই কাজে একটা বিষয় মানতে হবে। শিশু যদি আপনার সাথে কথা বলে, তাহলে তাকে বাইরের কারো সাথে কথা বলতে উৎসাহ দিন। কিন্তু শিশু যদি আপনার সাথেও একদম কথা না বলে, তবে স্কুলের কাউন্সেলর বা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া ভালো।

অনেকে এই ১৫ মিনিটে শিশুকে পড়াশোনা শেখাতে চান। এতে শিশু খেলাটাকে শাস্তি ভাবতে শুরু করে, আর আপনার সাথেও সে মিশতে চায় না। ফলে বন্ধু বানানোর প্রথম ধাপটাই ভেঙে যায়।

খেলা শেষ হওয়ার আগে দুই মিনিটের সতর্কবার্তা দিন। হঠাৎ খেলা থামালে শিশু বিরক্ত হয় এবং পরদিন আর বসতে চায় না। সময়ের সীমা মেনে চললে সে নিরাপদ বোধ করে।

নিজের মেজাজ খারাপ থাকলে ওই দিন এই অভ্যাস বাদ দিন। আপনার অস্থিরতা শিশুকে অস্বস্তিতে ফেলে এবং আগের অগ্রগতি নষ্ট করে। পরদিন শান্ত মনে আবার শুরু করুন।

পার্কে ছোট দলে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন

পার্কে ছোট দলে খেলতে শেখা দুটি শিশু
Photo: Sarowar Hussain on Pexels

বাড়ির বাইরের পরিবেশ শিশুকে নতুন মানুষের সাথে মিশতে সাহায্য করে। তবে বড় ভিড়ে না গিয়ে দু-তিন জনের ছোট দলে যাওয়াটা বেশি কাজ দেয়।

আপনার এলাকার পার্কে বা খেলার মাঠে যান। এমন সময় বেছে নিন যখন সেখানে কম শিশু থাকে। সকালের দিকে বা বিকেলের শুরুতে ভিড় কম থাকে।

দুপুরের পর স্কুল থেকে ফেরা বড় শিশুরা মাঠ দখল করে নেয়। তাদের দৌড়াদৌড়ি ছোট শিশুকে ভয় পাইয়ে দেয়। তাই তিনটার আগে মাঠে গেলে সমবয়সী শিশু পাওয়া সহজ হয়।

আপনার পরিচিত কারো শিশু থাকলে তাকে সাথে নিন। অপরিচিত অনেক শিশুর ভিড়ে গেলে লাজুক শিশু আরও চুপসে যায়। পরিচিত একটি শিশু থাকলে সে নিরাপদ বোধ করে।

একসাথে দুটির বেশি শিশু নিয়ে গেলে নিজেদের মধ্যেই তারা ব্যস্ত থাকে। বাইরের কেউ তখন সহজে মিশতে পারে না। প্রথম কয়েকদিন একজন সঙ্গী রাখাই ভালো।

মাঠে গিয়ে শিশুকে বলুন, “ওই দোলনায় কেউ নেই, চলো যাই।” সরাসরি অন্য শিশুদের সাথে কথা বলতে বলবেন না। নিজের কাজ নিজে করুক, অন্যরা কাছে আসবে।

অনেক অভিভাবক শিশুকে জোর করে বালিতে খেলতে বলেন। এই তাড়াহুড়ো শিশুকে আরও গুটিয়ে দেয়। বালির বাক্সের পাশে বসে শুধু দেখতে দিন।

তিন-চার দিন একই সময়ে একই পার্কে গেলে অন্য শিশুরা আপনার শিশুকে চিনতে শুরু করবে। পরিচয় হলেই তারা একসাথে খেলতে চাইবে।

একই বেঞ্চি বা একই গাছের নিচে বসা অভ্যাস করুন। নির্দিষ্ট জায়গায় বসলে অন্য শিশুরা আপনাদের খুঁজে পায়। এতে আলাপ জমানো দ্রুত হয়।

যদি শিশু পার্কে গিয়ে কান্না শুরু করে বা ভয়ে আপনার পেছনে লুকিয়ে থাকে, তাহলে সেদিন জোর করবেন না। বাড়ি ফিরে আসুন। পরের দিন আবার চেষ্টা করুন।

টানা তিন দিন কান্না করলে এক সপ্তাহ বিরতি দিন। এরপর বাড়ির বারান্দা থেকে রাস্তার শিশুদের দেখান। ভয় কাটলে আবার পার্কে যান।

যেসব শিশুর শারীরিক কোনো সীমাবদ্ধতা আছে, তাদের জন্য ঢালু বা অমসৃণ মাঠ ঝুঁকির হতে পারে। তাদের জন্য সমতল ঘাসের জায়গা বেছে নিন।

স্কুলের শিক্ষকের সাথে জোড়ায় কাজের কথা বলুন

শ্রেণিকক্ষ শিশুর সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর জায়গা। এখানে শিক্ষক চাইলে শিশুকে সহজেই বন্ধু বানিয়ে দিতে পারেন।

স্কুলের শিক্ষককে আলাদাভাবে সময় নিয়ে বলুন। শিশু যে একা থাকছে, সেটা জানান। শিক্ষককে অনুরোধ করুন যেন তিনি শিশুকে একজন শান্ত সহপাঠীর সাথে জোড়ায় বসান।

শিক্ষক যখন দলীয় কাজ দেন, তখন আপনার শিশুকে কোনো নির্দিষ্ট দলে ঢুকিয়ে দেওয়ার বদলে একজন সঙ্গী ধরিয়ে দিলে ভালো হয়। চার-পাঁচ জনের দলে লাজুক শিশু হারিয়ে যায়। দুজনের দলে সে কথা বলতে বাধ্য হয়।

এই পদ্ধতিটা তখন কাজে লাগুন, যখন শিশু স্কুলে যায় কিন্তু বিরতির সময় একা বসে থাকে। শিশু যদি স্কুলেই যেতে না চায় বা ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে শুধু শিক্ষকের সাথে কথা বলে লাভ হবে না। তখন শিশু মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

শিক্ষকের সাথে কথা বলার পর দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। এর মধ্যে শিশু যদি স্কুলের কোনো বন্ধুর নাম বলে, বুঝবেন কাজ হচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে আপনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। শিক্ষক কতটা সময় দিতে পারছেন, তার ওপর সব নির্ভর করে। শিশু কোন শ্রেণিতে পড়ে এবং সেখানে মোট কতজন ছাত্র আছে, সেটা জানা থাকলে শিক্ষকের কাজ কতটা কঠিন সেটা বুঝতে পারবেন।

বাচ্চার বন্ধু বানাতে যা করবেন না

বাচ্চাকে জোর না করে পাশে বসে থাকা অভিভাবক
Photo: Dipu Shahin DS on Pexels

ভালো উদ্দেশ্য থেকেও আমরা এমন কিছু করি, যা শিশুর ক্ষতি করে। নিচের কাজগুলো এড়িয়ে চলুন।

  • জোর করে অন্য শিশুর সাথে খেলতে বলা: শিশুকে ধমক দিয়ে বলবেন না “ওর সাথে যাও খেলতে”। এতে শিশু ভাবে বন্ধু বানানো একটা কঠিন পরীক্ষা, যা সে পারছে না।

পার্কের বেঞ্চে বসে থাকা শিশুটিকে টেনে নিয়ে যাবেন না। তার পাশে বসে থাকুন, নিজে অন্য বাচ্চার সাথে সহজভাবে কথা বলুন।

আপনার এই স্বাভাবিক আচরণ দেখলে শিশু বুঝবে অচেনা মানুষের সাথে কথা বলা আসলেই ভয়ের কিছু নয়।

  • সবার সামনে লাজুক বলা: আত্মীয়দের সামনে “ও খুব লাজুক” বলবেন না। শিশু এই কথা শুনে নিজেকে সত্যিই লাজুক ভাবতে শুরু করে, আর চেষ্টা ছেড়ে দেয়।

কেউ জিজ্ঞেস করলে বলুন, “ও একটু সময় নেয়, তারপর ঠিকই মেশে।” এতে শিশুর ওপর চাপ পড়ে না।

  • নিজের ছোটবেলার গল্প শোনানো: “আমি তো ছোটবেলায় সবার সাথে মিশতাম”—এই কথা শিশুকে দোষী বোধ করায়। আপনার অভিজ্ঞতা আর শিশুর পরিস্থিতি এক নয়।

আপনি হয়তো ছোট পরিবারে বড় হয়েছেন, আর আপনার শিশু নতুন শহরে এসেছে। এই পার্থক্যটি মাথায় রাখুন।

  • একাধিক ক্লাসে ভর্তি করা: শিশুকে হঠাৎ নাচ, আঁকা আর খেলার ক্লাসে একসাথে ভর্তি করবেন না। ক্লান্ত শিশু নতুন কারো সাথে মেশার শক্তি পায় না।

নতুন কোনো ক্লাসে ভর্তি করার আগে অন্তত দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। আগের ক্লাসে সে স্বস্তি পেলে তবেই পরেরটি ভাবুন।

  • অন্য শিশুর সাথে তুলনা করা: “দ্যাখো ওই ছেলেটা কত বন্ধু বানিয়েছে”—এই তুলনা শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। সে তখন ওই শিশুটিকে বন্ধু নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে।

তুলনা করতেই হলে শিশুর নিজের অতীতের সাথে করুন। গত মাসে সে যেখানে একা ছিল, আজ সেখানে কাউকে হাত নেড়ে ডাকছে—এটাই আসল সাফল্য।

বাচ্চার বন্ধু বানানোর সঠিক নিয়ম

ভুল পদ্ধতি বাদ দিয়ে সঠিক কাজগুলো নিচে দেওয়া হলো।

আপনি যদি এটা করেন তাহলে এটা করুন কেন
শিশুকে বড় ভিড়ে ছেড়ে দেন দু-তিন জনের ছোট দলে নিয়ে যান ছোট দলে শিশু ভয় পায় না, কথা বলার সুযোগ পায়।
শিশুকে বন্ধু বানাতে বলেন পাশে বসে একসাথে খেলার পরিবেশ তৈরি করেন নির্দেশ শুনলে শিশু চাপে পড়ে, পরিবেশ পেলে নিজেই মেশে।
শিশুকে লাজুক বলে পরিচয় দেন শিশুর ভালো দিকের কথা বলেন ইতিবাচক কথা শুনলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

জন্মদিনের পার্টি বা বড় পারিবারিক অনুষ্ঠানে শিশুকে একা ছেড়ে দেবেন না। সেখানে অন্তত বিশ-পঁচিশজন মানুষ থাকে। এই ভিড়ে নতুন কারও সাথে কথা বলা তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

পার্কে গেলে আগে থেকেই কোনো একটি নির্দিষ্ট খেলা বেছে রাখুন। ধরুন, মাটির ঘর বানানো বা বল গড়ানো। একই খেলায় মনোযোগ থাকলে দুজন অচেনা শিশু সহজেই কাছাকাছি আসে।

তাদের আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো দরকার হয় না। হাতে একই রকম খেলনা থাকলে তারা নিজেরাই একে অপরের দিকে তাকায়।

অনেক বাবা-মা অন্যদের সামনে বলেন, “ও একটু লাজুক, কথা বলে না।” শিশু এই কথা শোনে এবং বিশ্বাস করে নেয় যে সে সত্যিই লাজুক। পরে সে আর চেষ্টাও করে না।

এর বদলে বলুন, “ও ছবি আঁকতে খুব ভালোবাসে।” এই একটি বাক্য অন্য শিশুকে কাছে টানার জন্য যথেষ্ট। আপনার শিশুও তখন গর্ব অনুভব করে।

নতুন কারও সাথে মিশতে সময় লাগে। প্রথম দিনেই ফল আশা করবেন না। একই জায়গায় প্রতিদিন গেলে পরিচিত মুখ দেখে শিশু নিজেই এগিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়: কার্যকর কৌশল ও পরামর্শ
বাচ্চার ভয় দূর করার উপায়: কার্যকর ও সহজ কিছু কৌশল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *